Posts

Short Story by Sourav Mukhopadhyay

লেখক Sourav Mukhopadhyay এর শুভো এবং সুজাতাকে নিয়ে লেখা ও বিভিন্ন সময়ে রবিবাসরীয়তে এবং সংবাদ প্রতিদিনের "ছুটি" বিভাগে প্রকাশিত হওয়া চারটি গল্প  প্রথম গল্পঃ পুরনোস্টেশন https://www.anandabazar.com/supplementary/rabibashoriyo/a-short-story-about-the-old-station-1.552317 দ্বিতীয় গল্পঃ সুজাতার গল্প https://epaper.sangbadpratidin.in/epaper/edition/1004/sangbad-pratidin-02-07-17/11/chhuti/page/2 তৃতীয় গল্পঃ ইনক্রিমেন্ট https://www.anandabazar.com/supplementary/rabibashoriyo/a-short-story-called-increment-1.1138239 চতুর্থ গল্পঃ খালাস  https://www.anandabazar.com/supplementary/rabibashoriyo/short-story-by-sourav-mukhopaddhay-1.1253501

স্বপনকুমার ও আমাদের ছোটবেলা

বই: স্বপনকুমারের কুড়িটি উপন্যাস প্রথম খন্ড, প্রকাশক: দেব সাহিত্য কুটির , মূল্য: ২৭৫ টাকা, স্বপনকুমার, আমার মতন যারা ৮০ দশকের শেষের দিকে বা ৯০ দশকের শুরুর দিকে স্কুলে পড়েছেন তাদের কাছে অতি পরিচিত নাম । আমার এক বড় দাদা ছিল চেয়ে আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তার পাঠ্যজীবন শেষ করে তা কেনা কিছু স্বপনকুমারের বই ছিল, পাতলা চটি চটি বই । তখন মূল্য ছিল এক টাকা করে । আর বইয়ের পেছনে একটা লিস্ট থাকতো তাতে কতগুলো গল্প আছে মোট এরকম কতগুলি বই আছে আরো । তখন আমার আবছা মনে আছে তখন আমি দেখেছিলাম মোটামুটি ১০০ খানার মতন ছিল, আমি জানি না এর থেকে বেশী স্বপনকুমার লিখেছেন কিনা । স্বপনকুমার আমাদের ছাত্র জীবনের লুকিয়ে বই পড়ার অনেকখানি জুড়ে ছিলেন । সবচেয়ে মজার ছিল এই স্বপনকুমারের বই পড়তে খুব বেশী সময় লাগতো না । তার কারণ বইয়ের আকার খুব একটা বড় হত না। খুব কম সময়ের মধ্যেই একটা বই পড়ে এক্কেবারে শেষ করে ফেলা যেত । আমাদের সময় ফেসবুক ছিল না আমাদের সময় হোয়াটসঅ্যাপ ছিল না আমাদের ইন্টারনেট ছিল না আমরা কম্পিউটার পাইনি । তাই স্বপনকুমার আমাদের বিনোদনের অনেকটা জায়গা জুড়ে ছিলেন, স্বপনকুমার আমাদের কাছে একটা আবেগের নাম । আমাদের...

আরো একটি ঝড়

পম্পা বড় হয়েছে যে পাড়ায় সে পাড়ায় থাকে সৈকত। ওদের বাড়ি দুটি এককালে একই পরিবারের ছিল। পরবর্তিকালে দু'ভাগে ভাগ ও দু'ভাগই আলাদা করে বিক্রী হয়ে যায়। ওদের বাড়ির ঢোকার দরজা দুটি পাশাপাশি সবুজ রঙের। আগের ভাইরা ভাগাভাগির পর একসাথে রঙ করিয়েছিল। তাই দরজাদুটির রঙ একই অনুপাতে ম্রিয়মাণ। মাঝে মাঝেই ভুল হয়ে যায়। ভুল পম্পারও হত। পম্পা জানত কখন সৈকত দরজার পেছনে আড়ি পেতে আছে। অবলীলায় ঢুকে পড়া এরপর একটু ধ্বস্তাধস্তি তারপরেই হাতের চেটো দিয়ে ঠোঁট মুছতে মুছতে নিজের বাড়িতে ঢুকে যেত। আজ বাইরে প্রচণ্ড ঝড়। বাবা-মা দিদাকে দেখতে গিয়ে আটকে গেছে। নইলে পম্পার আগেই ফিরে আসার কথা। ওইদিকে সৈকতের বাড়িও ফাঁকা। কাকু-কাকীমা বেড়াতে গেছেন। ফিরবেন পরের সপ্তাহে। চাবি পম্পার কাছে থাকত। বাড়ির কাছে এসে খেয়াল হয়েছে ওটা ব্যাগেই রয়ে গেছে। ব্যাগটা স্যারের বাড়ি রেখে এসেছে যাতে বইগুলি প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভিজে না যায়। কী হবে? এদিকে লোডশেডিং, চাবি নেই, বাইরে প্রচণ্ড ঝড়। বাড়ির কাছাকাছি আসতেই দরজার পাশে সৈকতের সাইকেলটা দেখতে পেল। তার মানে সৈকত ঘরেই আছে? অন্ধকারে জানালার ফাঁকা দিয়ে হলুদ আলো দেখা যাচ্ছে। বোধহয় ঘরে লন্ঠন জ্বলছে...

আমি ভালো আছি

আমি ভালো আছি ========== আমি ভালো আছি আমার ছোট বাড়ি তাই বসার ঘর থেকে খাওয়ার টেবিলে আসতে মাত্র দশ পা হাঁটলেই চলে। হাজার মাইল হাঁটার দরকার পড়ে না। আমি ভালো আছি। আমার বিছানা পাথরের নুড়ি বিছানো নয় নরম শিমূলতুলোয় মোড়া আমার গদি। পাশবালিশ আমার তুলতুলে নরম ইস্পাতের লাভাগরম রেললাইন নয়। আমি ভালো আছি। বিছানায় শুয়ে আমি মৃত্যুর গন্ধ পাই আচমকাই জেগে উঠি তারপর আবার ঘুমাই নরম পাশবালিশকে পরম আশ্লেষে জড়িয়ে। ব্যাগ মাথায় হাঁটতে হচ্ছে না আমাকে রেল লাইনে ঘুমুতে হচ্ছে না আমাকে রান্নাঘরে গরম খাবারের গন্ধ পাচ্ছি আমি ভালো আছি।। ঋজু ঘোষ, ৯ মে ২০২০, ব্যাঙ্গালোর ১৬ জন শ্রমিক প্ররিশ্রান্ত রেললাইনের ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় চিরঘুমে তলিয়ে গেলেন। আমার দেশ তুমি কি এই অভিশাপ কাটিয়ে উঠতে পারবে? 'এই মৃত্যু উপত্যকা আমার'ই দেশ। হায়!!

বদল

চেহারার সাথে সাথে শহরেরও ভূগোল বদলায় কেন এত ভাঙাগড়া, কেন এত কারিগর এক বাড়ি ভেঙে আরএক বাড়ি এক সম্পর্ক ভেঙে আরএক যে মেয়েটি নববধূর লজ্জায় পিছু পিছু ধীরপায়ে এসেছিল একদিন আজ তারই হাতে ঘরের চাবি দরজা সেই খুলছে লোকটি অথর্বপ্রায় কোনমতে দাঁড়িয়ে থাকা এক নিঃস্বঙ্গ সম্রাট ঘোলা চোখে দেখছে, ভুলে গেছে অবাক হতে একদিন মেয়েটির হাতবদল হয়েছিল আজকে চাবিটার হাতবদল হয়েছে।। ঋজু ঘোষ, ব্যাঙ্গালোর, 15 সেপ্টেম্বর 2019

ইন্টারভ্যাল

যখন সারা পৃথিবী ধর্ম নিয়ে করছে অভিনয় তখন আপনি অভিনয়কে ধর্ম করে ফেলেছেন তারপর পাড়ি দিয়েছেন সাতসমুদ্দুর শুরুটা শুরু হতে সময় নিয়েছে শেষটাও শেষ হল না শেষবারের মত যার রাস্তাটাই শিল্প ছিল আর শিল্পটাই রাস্তা সেই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আমার মত অজস্র আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম আপনাকে দেখব বলে আমরা দাঁড়িয়ে আছি আপনাকে দেখব বলে আমরা দাঁড়িয়ে থাকব আপনাকে দেখব বলে এ এক অনন্ত ম্যারাথন - যে ম্যারাথন শুরু করার ধৈর্য আপনি দেখালেন সে অনন্ত ম্যারাথন আমরা দেখে যাব বহুযুগ কেউ বলে নি আপনার একটুও খুঁত ছিল কেউ বলবে না আপনার আপোষ ছিল এমনটাও হয়! যাকে নিয়ে একটাও খারাপ কথা নেই? যাকে নিয়ে সমালোচনা হল না ? বোদ্ধারা চুপ, ভক্তরা উদ্বেল-আহত এরই মধ্যে একটু তাড়াহুড়ো করে অন্ধকার ঘর থেকে চুপচাপ উঠে পড়লেন চেয়ারের দুই হাতলে যেভাবে কেউ হাত রাখে উঠে পড়বার আগে - বুঝেছিল অনেকেই তাও কেউই ভাবে নি জীবন কি আপনার সাথে একটা অভিনয় করল? হোক না এ এক ইন্টারভ্যাল যেমন সিনেমায় হয় আমাদের বুকের ভেতরে মর্মর এপিটাফ নিয়ে একখান বেড়ে গেছে সকলের প্রত্যাশা, আপনি ফিরছেন ইরফান।। -ঋজু ঘোষ, ২৯ এপ্রিল ২০২০, ব্যাঙ্গ...

ডাচ গোল্ডেন এজ, রেমব্রান্ট ও নাইট ওয়াচ

Image
             হল্যান্ড বা অধুনা নেদারল্যাণ্ডের শিল্পকলা পশ্চিম দুনিয়ার ইতিহাসে এক গুরুত্ত্বপূর্ণ অধ্যায়। ডাচ শিল্পের ইতিহাস একটু অন্যরকম বাকী আর সব সমকালীন বা পাশাপাশি দেশের শিল্পের ইতিহাসের তুলনায়। ইতালি , স্পেন , ফ্রান্স ইত্যাদি দেশের থেকে ডাচ শিল্পের ধারা একটু অন্যরকম। ডাচ শিল্পের সেরা সময়কে তাই আলাদাভাবে " ডাচ গোল্ডেন এজ " বলা হয় যা মূলত ষোড়শ শতাব্দী থেকে সপ্তদশ শতাব্দী অব্দি বিস্তৃত ছিল। ডাচ শিল্পীদের মধ্যে অনেকেই বেশ নাম করা। ফ্রান্স হালস , রেমব্রান্ট , ভেরমেয়ার , ভ্যানগখ ইত্যাদি। এরা সকলেই কপর্দকশূন্য অবস্থায় মারা গেছেন। এদের মধ্যে সেরা হলেন রেম্ব্রান্ট। বাংলা সাহিত্যে যেমন রবীন্দ্রনাথ তেমনই ডাচ শিল্পকলায় রেমব্রান্ট। একে ছাড়া ডাচ শিল্পের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। রেমব্রান্ট সারা জীবনে প্রচুর ছবি এঁকেছেন , কিন্তু তাঁর " নাইট ওয়াচ " এমন এক কীর্তি যার জন্যে রেমব্রাণ্টকে সারা দুনিয়া মনে রাখবে। রেমব্রান্ট দক্ষ ছিলেন পোর্ট্রেট ও এচিং - এ। তিনি প্রচুর পোর্ট্রেট এঁকেছেন। যে পরিমান নিজের পোর্ট্রেটও এঁকেছেন   তাও দেখার মত। আমি এমন একজনের সাথে পরিচিত য...