Posts

গীতাঞ্জলির নোবেল প্রাপ্তি, রবীন্দ্রনাথ ও কাঁকড়া বাঙালি

Image
।। ১ ।। বাঙালি কাঁকড়ার জাত। পৃথিবীর যেকোন প্রান্তেই সে থাকুক না কেন, বাঙালিরা প্রথম যে কাজটা করে সেটা হলো একটি ক্লাব তৈরি করা। তারপর সেই ক্লাবে নিয়মিত খাওয়া দাওয়ার পর্ব মিটে গেলে একটি পূজার আয়োজন করা হয়। সেই পূজা কমিটিতে কে কী হবেন কী হবেন না সেই নিয়ে কিছুদিনের মধ্যেই একটা দ্বন্দ্বের তৈরি হয় এবং তারপর সেই ক্লাব দুভাগ থেকে চার ভাগ থেকে আট ভাগ হতে হতে বহু ক্লাবের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে যদি অন্যান্য ভারতীয় ভাষাভাষীদের আপনার লক্ষ্য করেন তবে দেখবেন, তাদের মধ্যে কী সাংঘাতিক ঐক্য। আমেরিকায় তামিলদের একটি শক্তিশালী সংগঠন আছে। এমনকি তামিলরা মিলিতভাবে এমআইটি ইনস্টিটিউটে (MIT) ডোনেশন দেয়। তারফলে একটি তামিল চেয়ার ও কিছু তামিল ছাত্রছাত্রীরা সেখানে পড়াশোনার সুযোগ পায়। পাঞ্জাবিরাও একইভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে চলেছে তাদের পাঞ্জাব প্রদেশের বাইরে। সে ভারতেই হোক বা বিদেশে যেকোন জায়গায়, পাঞ্জাবিরা অন্য আরেকজন সদ্য আগত পাঞ্জাবিকে মুক্তহস্তে সাহায্য করে প্রতিষ্ঠিত হবার জন্যে। তবে তা কখনই এককালীন নয়, নিঃশর্তভাবে সাহায্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিটিও সেই টাকা বিনা দ্বিধায় ফিরিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠিত হবার পরে। এর প...

৫ টাকায় বই ও প্রিন্ট অন ডিমান্ড

 শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই হচ্ছে। বাংলার এক প্রথম সারির প্রকাশক বেশ কিছু বই মাত্র ৫ টাকায় ছেড়ে দিচ্ছেন। হতেই পারে সেগুলি হয়ত বিক্রি হচ্ছিল না, আমার তাতে কী? কিন্তু আমার একটি প্রশ্ন এই বই বিক্রির টাকা লেখকরা পাবেন তো? মানে পেলেও ঠিক কতটা পাবেন? শতকরা ১০% হারে রয়্যালটি পেলে বই পিছু ৫০ পয়সা করে পাবেন। প্রকাশক কি বলবেন, 'বই ছাপানোর পয়সাই ওঠেনি তার আবার রয়্যালটি কোথা থেকে আসবে?' একজন বই ক্রেতা হিসাবে আমার এইসব ভাববার কথা না। বরং খুশি মনে বেশ কিছু বই ৫ টাকায় কিনে আলমারি ভরিয়ে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু আমার মনে প্রশ্ন জাগছে।  দেশ পত্রিকাও একসময় ৫ টাকায় নেমে এসেছিল। তবে দেশ চলে মূলত বিজ্ঞাপনের টাকায়। সেখানে লাভ থাকেই। তাই কম দামে ছাড়লেও দেশ তার লেখকদের পয়সা নিয়ে কোন সমঝোতা করেনি। তাই এর সাথে তুলনা করলে চলবে না। কোন বই চলবে কোন বই চলবে না বলা মুশকিল। এমন সব বই বেস্ট সেলার হয়ে যায় যেগুলি কোন প্রকাশক কল্পনাই করতে পারে না। ফরাসী লেখক মারসেল প্রুস্তের "অতীতের স্মৃতিরোমন্থন" নামে একটি বই স্বয়ং আন্দ্রে জিদ এক প্রকাশকের হয়ে নাকচ করে দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য জিদ নিজের ভুল স্বীকার ক...

আলোকবর্ষ

একটা আলোকবর্ষ দূরে আমার ভালোবাসা তোমাকে দিলাম আলোকবর্ষ তো কোন সময় নয় কেবলই দূরত্ব। অথচ কেমন সময়ের সাথে সাথে দূরত্ব বাড়তেই থাকে  রাস্তার পাশের গাছগুলি কাটা পড়ে লাশকাটা ঘরে তবু কিছুটা সেলাই করা হয় কিন্তু যে সময়টা কাটা পরে গেছে তা জুড়লে  কয়েক আলোকবর্ষ হয়ে যাবে।  আবারও বলছি আলোকবর্ষ কোন সময়ের হিসেব নয় এ দিয়ে কেবল দূরত্বই মাপা হয়।  তবু সময়ের সাথে সাথেই তো দূরত্ব বেড়ে চলে আমাদের অর্থনৈতিক হিসেবের যোগ-বিয়োগের মাঝে কয়েক আলোকবর্ষ ব্যবধান ।। -- ঋজু, ১২ মার্চ ২০২১ ব্যাঙ্গালোর 

Short Story by Sourav Mukhopadhyay

লেখক Sourav Mukhopadhyay এর শুভো এবং সুজাতাকে নিয়ে লেখা ও বিভিন্ন সময়ে রবিবাসরীয়তে এবং সংবাদ প্রতিদিনের "ছুটি" বিভাগে প্রকাশিত হওয়া চারটি গল্প  প্রথম গল্পঃ পুরনোস্টেশন https://www.anandabazar.com/supplementary/rabibashoriyo/a-short-story-about-the-old-station-1.552317 দ্বিতীয় গল্পঃ সুজাতার গল্প https://epaper.sangbadpratidin.in/epaper/edition/1004/sangbad-pratidin-02-07-17/11/chhuti/page/2 তৃতীয় গল্পঃ ইনক্রিমেন্ট https://www.anandabazar.com/supplementary/rabibashoriyo/a-short-story-called-increment-1.1138239 চতুর্থ গল্পঃ খালাস  https://www.anandabazar.com/supplementary/rabibashoriyo/short-story-by-sourav-mukhopaddhay-1.1253501

স্বপনকুমার ও আমাদের ছোটবেলা

বই: স্বপনকুমারের কুড়িটি উপন্যাস প্রথম খন্ড, প্রকাশক: দেব সাহিত্য কুটির , মূল্য: ২৭৫ টাকা, স্বপনকুমার, আমার মতন যারা ৮০ দশকের শেষের দিকে বা ৯০ দশকের শুরুর দিকে স্কুলে পড়েছেন তাদের কাছে অতি পরিচিত নাম । আমার এক বড় দাদা ছিল চেয়ে আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তার পাঠ্যজীবন শেষ করে তা কেনা কিছু স্বপনকুমারের বই ছিল, পাতলা চটি চটি বই । তখন মূল্য ছিল এক টাকা করে । আর বইয়ের পেছনে একটা লিস্ট থাকতো তাতে কতগুলো গল্প আছে মোট এরকম কতগুলি বই আছে আরো । তখন আমার আবছা মনে আছে তখন আমি দেখেছিলাম মোটামুটি ১০০ খানার মতন ছিল, আমি জানি না এর থেকে বেশী স্বপনকুমার লিখেছেন কিনা । স্বপনকুমার আমাদের ছাত্র জীবনের লুকিয়ে বই পড়ার অনেকখানি জুড়ে ছিলেন । সবচেয়ে মজার ছিল এই স্বপনকুমারের বই পড়তে খুব বেশী সময় লাগতো না । তার কারণ বইয়ের আকার খুব একটা বড় হত না। খুব কম সময়ের মধ্যেই একটা বই পড়ে এক্কেবারে শেষ করে ফেলা যেত । আমাদের সময় ফেসবুক ছিল না আমাদের সময় হোয়াটসঅ্যাপ ছিল না আমাদের ইন্টারনেট ছিল না আমরা কম্পিউটার পাইনি । তাই স্বপনকুমার আমাদের বিনোদনের অনেকটা জায়গা জুড়ে ছিলেন, স্বপনকুমার আমাদের কাছে একটা আবেগের নাম । আমাদের...

আরো একটি ঝড়

পম্পা বড় হয়েছে যে পাড়ায় সে পাড়ায় থাকে সৈকত। ওদের বাড়ি দুটি এককালে একই পরিবারের ছিল। পরবর্তিকালে দু'ভাগে ভাগ ও দু'ভাগই আলাদা করে বিক্রী হয়ে যায়। ওদের বাড়ির ঢোকার দরজা দুটি পাশাপাশি সবুজ রঙের। আগের ভাইরা ভাগাভাগির পর একসাথে রঙ করিয়েছিল। তাই দরজাদুটির রঙ একই অনুপাতে ম্রিয়মাণ। মাঝে মাঝেই ভুল হয়ে যায়। ভুল পম্পারও হত। পম্পা জানত কখন সৈকত দরজার পেছনে আড়ি পেতে আছে। অবলীলায় ঢুকে পড়া এরপর একটু ধ্বস্তাধস্তি তারপরেই হাতের চেটো দিয়ে ঠোঁট মুছতে মুছতে নিজের বাড়িতে ঢুকে যেত। আজ বাইরে প্রচণ্ড ঝড়। বাবা-মা দিদাকে দেখতে গিয়ে আটকে গেছে। নইলে পম্পার আগেই ফিরে আসার কথা। ওইদিকে সৈকতের বাড়িও ফাঁকা। কাকু-কাকীমা বেড়াতে গেছেন। ফিরবেন পরের সপ্তাহে। চাবি পম্পার কাছে থাকত। বাড়ির কাছে এসে খেয়াল হয়েছে ওটা ব্যাগেই রয়ে গেছে। ব্যাগটা স্যারের বাড়ি রেখে এসেছে যাতে বইগুলি প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভিজে না যায়। কী হবে? এদিকে লোডশেডিং, চাবি নেই, বাইরে প্রচণ্ড ঝড়। বাড়ির কাছাকাছি আসতেই দরজার পাশে সৈকতের সাইকেলটা দেখতে পেল। তার মানে সৈকত ঘরেই আছে? অন্ধকারে জানালার ফাঁকা দিয়ে হলুদ আলো দেখা যাচ্ছে। বোধহয় ঘরে লন্ঠন জ্বলছে...

আমি ভালো আছি

আমি ভালো আছি ========== আমি ভালো আছি আমার ছোট বাড়ি তাই বসার ঘর থেকে খাওয়ার টেবিলে আসতে মাত্র দশ পা হাঁটলেই চলে। হাজার মাইল হাঁটার দরকার পড়ে না। আমি ভালো আছি। আমার বিছানা পাথরের নুড়ি বিছানো নয় নরম শিমূলতুলোয় মোড়া আমার গদি। পাশবালিশ আমার তুলতুলে নরম ইস্পাতের লাভাগরম রেললাইন নয়। আমি ভালো আছি। বিছানায় শুয়ে আমি মৃত্যুর গন্ধ পাই আচমকাই জেগে উঠি তারপর আবার ঘুমাই নরম পাশবালিশকে পরম আশ্লেষে জড়িয়ে। ব্যাগ মাথায় হাঁটতে হচ্ছে না আমাকে রেল লাইনে ঘুমুতে হচ্ছে না আমাকে রান্নাঘরে গরম খাবারের গন্ধ পাচ্ছি আমি ভালো আছি।। ঋজু ঘোষ, ৯ মে ২০২০, ব্যাঙ্গালোর ১৬ জন শ্রমিক প্ররিশ্রান্ত রেললাইনের ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় চিরঘুমে তলিয়ে গেলেন। আমার দেশ তুমি কি এই অভিশাপ কাটিয়ে উঠতে পারবে? 'এই মৃত্যু উপত্যকা আমার'ই দেশ। হায়!!